নভেম্বর ১৫, ২০১৯

নানা আয়োজনে উদযাপিত হলো রথযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়েছে।

বোরবার দুপুরে রাজধানীর স্বামীবাগ আশ্রম থেকে শুরু হয় পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা। বিপুল সংখ্যক ভক্তের অংশগ্রহণে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে রথযাত্রা রাজধানীর জয়কালী মন্দির, ইত্তেফাক মোড়, মতিঝিল শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলা মোড়, পুরানা পল্টন মোড়, প্রেসক্লাব, দোয়েল চত্ত্বর, পলাশী হয়ে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়।

রথযাত্রা শুরুর আগে স্বামীবাগ ইসকন মন্দির প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। আরো উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) আছাদুজ্জামান মিয়া প্রমুখ। রথযাত্রার উদ্বোধন করেন ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।

প্রতিবারের মতো এবারও ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনসাসনেস (ইসকন) রথযাত্রার আয়োজন করে। আটদিন পর ৩ জুলাই ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে রথের উল্টো রথযাত্রা শুরু হবে। রথযাত্রার উৎসবকে কেন্দ্র করে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ফাকা রাজধানীর মধ্যেও যানজটের সৃষ্টি হয়।
রথযাত্রার সময় সংশ্লিষ্ট রাস্তার ফুটপাতের দোকানগুলোও নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। রথযাত্রার সময় বিপুল সংখ্যক হিন্দু ধর্মাবলম্বী রাস্তার দুপাশে ভিড় জমান। অনেকে রথযাত্রায় অংশ নেন। এ উপলক্ষে মন্দির এলাকায় আয়োজিত মেলায়ও মানুষের উপচে পড়া ভিড় হয়।
সনাতন ধর্মীয় রীতিতে আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে এ রথযাত্রা শুরু হয়। একাদশী তিথিতে শুরু হয় ফিরতি রথ। প্রথম দিন যেখান থেকে রথযাত্রা শুরু হয়, আটদিন পর আবার সেখানেই তা ফিরিয়ে আনা হয়, ভক্তদের কাছে যা উল্টোরথ নামে পরিচিত। ভক্তদের বিশ্বাস, জগন্নাথ দেবই জগতের নাথ বা অধীশ্বর। তার অনুগ্রহ পেলেই মানুষের মুক্তিলাভ হয়। সনাতন ধর্মের বিশ্বাস মতে, রথোপরি বামন বা জগন্নাথকে দেখতে পেলে জীব পুনর্জন্মের ধারা থেকে রক্ষা পায়। তাই জগন্নাথ দেবের কৃপা প্রার্থনা করে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পালন করে রথযাত্রার আনুষ্ঠানিকতা।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখক সম্পর্কে জানুন

এই রকম আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *