সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯

অবুঝ শিশুর চিঠিতে সাড়া দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ওয়াহিদুজ্জামান: মাদার অব হিউম্যানিটি খ্যাত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও আরেকটি অতি মানবিকতার নজির স্থাপন করলেন। তাকে দেয়া চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া শিশু সুমাইয়ার কাঁচা হাতে লেখা চিঠিতে সাড়া দিলেন তিনি। চিঠিতে সুমাইয়া তাদের দরিদ্র পরিবারের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে হতাশাগ্রস্ত ড্রাইভার পিতার অস্থায়ী চাকরি স্থায়ী করণের দাবি জানান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই শিশুর হাতের লেখা পড়ে তার পিতার চাকরি স্থায়ী করার উদ্যোগ নিলেন। সুমাইয়ার পিতা ড্রাইভার মহিউদ্দিন, তাঁর স্ত্রী সন্তান এবং শত শত মানুষের অশেষ কৃতজ্ঞতায় ভাসলেন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।
গত ৪ মে ২০১৮, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেয়া চিঠিতে সুমাইয়া লিখেন (হুবহু) বরাবর, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। বিষয়: আব্বুর চাকুরী নিয়মিত করার জন্য আবেদন। জনাব, বিনীত নিবেদন এই যে, আমার আব্বু বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের একজন গাড়ী চালক। সে আমার আব্বু প্রায় ১৫/১৬ বছর যাবৎ দৈনিক ভিত্তিতে চাকুরী করছেন। আব্বুসহ অফিসের বিভিন্ন পোস্টে ৩৯ জন দৈনিক ভিত্তিতে ছিলেন। ৩৮ জনের বিভিন্ন পদে নিয়মিত হয়েছেন। ১ জন বাদ পড়েছেন। সে আমার আব্বু। বাদ পড়ার কারণ আব্বু আওয়ামী লীগ করতেন। সে কারণে আজও পর্যন্ত নিয়মিত হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে আকুল আবেদন আমি একজন চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী। নাম : সুমাইয়া সানি মোহনা। আমরা দুই বোন এক ভাই নিয়ে দাদি অনেক কষ্টে আছি। আমার আব্বুর চাকুরি নিয়মিত করে আমাদের পরিবারকে একটু দয়া করুন। সারাজীবন আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবো।
ইতি, সুমাইয়া সানি মোহনা। চতুর্থ শ্রেণী, কাঁচিঝুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।
সুমাইয়ার দেয়া এই চিঠিটি পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০ মে ২০১৮ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শামীম আহম্মেদ, পরিচালক-৬ স্বাক্ষরিত পত্র নং-০৩.০৭৩.০২৭.৫৩.০০০০৬.২০১৬-১৪৫ স্মারক-এ এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য সিনিয়র সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থমন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা’কে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই আদেশ পাওয়ার পর অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য একটি পত্র হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন, প্রধান অফিসে পাঠিয়েছে। জানা মতে, হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন ড্রাইভার মহিউদ্দিনের চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরির কাজটি দ্রুত গতিতে করার চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে সুমাইয়ার পিতা মহিউদ্দিন জানান, গত ১৫-১৬টি বছর ধরে মাত্র ৫০০ টাকায় দৈনিক হাজিরায় কাজ করে যাচ্ছিলাম। বুকে শুধু একটি আশা নিয়ে আমার চাকরি স্থায়ী হবে এবং একদিন আমার সংসারে অভাব ঘুচবে। কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম, সবার চাকরি স্থায়ী হলো, শুধু আমার চাকরি স্থায়ী হলো না। এতদিন ধরে হাউস বিল্ডিংয়ের সর্বোচ্চ কর্মকর্তারা আমাকে শুধু আশা দিয়েই গেছেন। কিন্তু কোনো প্রাপ্তি নেই। এই সব লজ্জায়, অপমানে, ক্ষোভে, দরিদ্রতায় মাঝে-মধ্যেই আমার আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা হয়েছে। আমার এই বিপর্যস্ত-অসহায় জীবনের করুণ পরিস্থিতিতে কি বুঝে যেন আমার শিশু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠালেন। আমার স্ত্রী হয়তো তাকে সহযোগিতা করেছে, কিন্তু আমি কিছুই জানতাম না। যেদিন শুনলাম, আমার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে চিঠি এসেছে তখন বুক উজাড় করে কাঁদলাম। যখন আমার পাশে পৃথিবীর কেউ রইলো না তখন আল্লাহ্র মহান দূত হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এসে দাঁড়ালেন। আমি বেঁচে থাকার সাহস পেলাম। এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে দয়া করেন, তাহলে হয়তো পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকা সম্ভব হবে।
ড্রাইভার মহিউদ্দিনের চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্তী জানান, আমরা মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছি, ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক সাহেবও তাঁর ব্যাপারে আমার সাথে কথা বলেছেন। প্রতিষ্ঠানের রুলস্ অ্যান্ড রেগুলেশন অনুযায়ী তার ব্যাপারে প্রতিবেদন তৈরিতে তাকে আমি অবশ্যই সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কিন্তু আমার নেই, মন্ত্রণালয়ের। অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কামরুন নাহারও মহিউদ্দিনের ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের পজিটিভ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখক সম্পর্কে জানুন

এই রকম আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *