নভেম্বর ১৫, ২০১৯

নুসরাত হত্যা মামলায় কাউন্সিলর মকছুদ রিমান্ডে

নিউজ ডেস্কঃ ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আসামি সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মকছুদ আলমের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ফেনী আদালত।

সোমবার দুপুরে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন আহমদ এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, নুসরাত হত্যা মামলার ৪ নম্বর আসামি মকছুদ। তাকে গ্রেফতারের পর সকালে আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. শাহ আলম। আদালত শুনানি শেষে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী অংশ নেননি।

এ নিয়ে এ মামলার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মকছুদকে গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় গ্রেফতার করা হয়।

গত ২৭ মার্চ নুসরাতকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। মামলায় ওইদিনই অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ ঘটনার পর গত ৬ এপ্রিল আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে নুসরাত সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে গেলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে শরীরের কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বোরকা পরা ৪/৫ জন। এতে নুসরাতের শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ফেনী সদর হাসপাতাল হয়ে তাকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে অধ্যক্ষ সিরাজকে সাময়িক বরখাস্ত করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়।

গত ৭ এপ্রিল নুসরাতের চিকিৎসায় নয় সদস্যের বোর্ড গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর ওপর এমন নির্মমতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সার্বিক চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। এরইমধ্যে ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গায়ে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় নুসরাতের ভাই ৮ এপ্রিল মামলা দায়ের করেন। নুসরাতের মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখক সম্পর্কে জানুন

এই রকম আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *