সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯

এনসিসি ব্যাংকের এমডির হিসাবে ৩৫ কোটি টাকা, দুদককে বিআইএফইউর চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক : বেসরকারি ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) বিশেষ অনুসন্ধানে ব্যাংকের ঋণগ্রহীতার টাকা ছাড়াও পরামর্শক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং শেয়ারবাজার থেকেও তার হিসাবে টাকা জমা হয়েছে বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে।

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) চিঠি দিয়েছে বিএফআইইউ। মঙ্গলবার ওই চিঠি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বিএফআইইউর তদন্ত অনুযায়ী, ৫ ব্যাংক, ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ৪টি ব্রোকারেজ হাউসে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা জমা হয়েছে। এর মধ্যে এনসিসি ব্যাংক ভবন শাখায় তার হিসাবে প্রতি মাসের বেতন বাবদ জমা হয় ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৮৪০ টাকা। তবে ওই শাখাতেই তিনি একটি বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব খোলেন, যাতে বিভিন্ন সময়ে জমা হয় ৫ হাজার ডলার। গত ৩১ জানুয়ারি জমা হয় ৮ হাজার ডলার।

২০১৫ সালের শেষে এনসিসি ব্যাংকে যোগদান করলেও তার যমুনা ব্যাংকের হিসাবে নিয়মিত টাকা জমা হয়েছে। যমুনা ব্যাংকে নিজের নামে একটি ও স্ত্রী লুনা শারমিনের সঙ্গে যৌথ একটি হিসাব রয়েছে। এতে জমা হয়েছে যথাক্রমে ৬ কোটি ও সাড়ে ৩ কোটি টাকা। এভাবে যমুনা ব্যাংকের হিসাবে সাড়ে ৯ কোটি টাকা জমা হয়েছে। এর মধ্যে যমুনা ও এনসিসি ব্যাংকের গ্রাহক ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং একাই দিয়েছে ৪ কোটি টাকা। এই টাকা জমা হয়েছে ২০১৮ সালের ৫,১২, ১৫ ও ২৫ এপ্রিল।

দি সিটি ব্যাংকে মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, তার স্ত্রী লুনা শারমিন ও তাদের যৌথ মিলে তিনটি হিসাব রয়েছে। এসব হিসাবে বিভিন্ন সময়ে জমা হয়েছে সাড়ে ৬ কোটি টাকা। প্রাইম ব্যাংকের ইসলামি ব্যাংকিং শাখায় তার নামে থাকা হিসাবে জমা হয়েছে ৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। প্রিমিয়ার ব্যাংকে থাকা হিসাবে জমা হয়েছে ২ কোটি ৮ লাখ টাকা।

এছাড়া, রিলায়েন্স ফাইন্যান্সে তার নামে রয়েছে ৪ কোটি টাকা ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ২ কোটি টাকার মেয়াদি আমানত। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে নিজের নামে ৪টি ব্রোকারেজ হাউসে হিসাব খুলেছেন মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। এসব হিসাবে জমা রয়েছে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। ব্রোকারেজ হাউসগুলো হলো সিটি ব্রোকারেজ, এনসিসি ব্যাংকের সিকিউরিটিজ, সিএসএমএল সিকিউরিটিজ ও ই-সিকিউরিটিজ

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখক সম্পর্কে জানুন

এই রকম আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *