সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯

বৈদ্যুতিক শক দিয়ে জ্ঞান ফিরিয়ে আবার পেটানো হতো কাশ্মীরীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কাশ্মীরে বিক্ষোভকারীদের লাঠি ও ক্যাবল দিয়ে পেটানোসহ ইলেকট্রিক শক দিয়েছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। কাশ্মীরের বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা বিবিসির কাছে এ অভিযোগ করেছেন।

গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে কেন্দ্রীয় সরকার। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা স্থগিত করা হয় সেখানে। কার্যত ভারতের অন্যান্য অংশ ও বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় কাশ্মীরকে। ১০ হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয় সেখানে। এছাড়া যে কোনো ধরণের রাজনৈতিক কর্মসূচি বন্ধে শীর্ষ রাজনীতিবিদসহ তিন হাজার লোককে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিবিসির সাংবাদিক সামির হাশমি জানিয়েছেন, কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা তাকে নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন দেখিয়েছেন। তবে গ্রামবাসীর এ অভিযোগের সত্যতা সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যাচাই করা যায় নি।

অবশ্য ভারতীয় সেনাবাহিনী এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও অপ্রমাণযোগ্য’ বলে দাবি করেছে।

সামির হাশমি তার প্রতিবেদনে বলেছেন, আমি দক্ষিণের জেলাগুলোর অন্তত ছয়টি গ্রামে গিয়েছি যেগুলো বিগত বছরগুলোতে ভারতবিরোধী যোদ্ধাদের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এসব গ্রামগুলোর অনেক বাসিন্দার কাছে নিরাপত্তা বাহিনীর নৈশ অভিযানে প্রহার ও নির্যাতনের একই ধরণের বিবরণ পেয়েছি।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা রোগীর স্বজন ছাড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে গ্রামবাসী নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নির্যাতনের যে অভিযোগ করেছে তাদের দেহের সেই জখমের চিহ্ন আমাকে দেখিয়েছে।

একটি গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কয়েক দশক আগে দিল্লি ও কাশ্মীরের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল ভারত সেটি ভঙ্গের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত জানানোর কয়েক ঘন্টা পর সেনাবাহিনী প্রত্যেক বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে।

ওই গ্রামের বাসিন্দা দুই ভাই অভিযোগ করেছেন, তাদের ঘুম থেকে ডেকে তোলা হয় এবং বাড়ির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গ্রামের প্রায় ১২ জন লোককে জড়ো করা হয়েছিল।

দুই ভাইয়ের একজন বলেন, ‘তারা আমাদেরকে পেটানো শুরু করে। আমাদের কাছে জানতে চাইছিল আমরা কী করেছি। ওদেরকে আমরা বলেছি, আমরা যদি কোনো অন্যায় করি, যদি মিথ্যা বলি তাহলে গ্রামবাসীদের কাছে জিজ্ঞেস করতে পারেন। কিন্তু ওরা কোনো কিছুই শুনতে চাইছিল না। ওরা কোনো কিছু বলছিলও না, তার স্রেফ আমাদের পেটাচ্ছিল।’

তিনি বলেন, ‘ওরা আমার দেহের প্রতিটি অংশে আঘাত করেছে। ওরা আমাদের লাথি মেরেছে, লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে, বৈদ্যুতিক শক দিয়েছে, ক্যাবল দিয়ে পিটিয়েছে। আমাদের পেছনে তারা বুট দিয়ে লাথি মেরেছে। আমরা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ইলেকট্রিক শক দিয়ে তারা চেতনা ফিরিয়েছে। ওরা লাঠি দিয়ে পেটানোর সময় আমরা চিৎকার করলে কাদা দিয়ে ঠেঁসে তারা আমাদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে।’

ওদের বলেছিলাম আমরা নিরাপরাধ। ওদের কাছে আমরা জানতে চেয়েছিলাম কেন তোমরা এমন করছ? ওরা আমাদের কথা শোনেনি। আমি ওদেরকে বলেছিলাম আমাদের এভাবে মের না, স্রেফ গুলি করে দাও। আমি আল্লাহর কাছে বলছিলাম, আমাকে মৃত্যু দাও। কারণ আমার পক্ষে নির্যাতন আর সহ্য করা সম্ভব হচ্ছিল না।

ওই গ্রামের বাসিন্দা আরেক তরুণ জানান, সেনারা তাকে চশমা, কাপড় ও জুতা খুলতে বলে। ‘কাপড় খোলার পর ওরা আমাকে রড ও লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে দুই ঘন্টা পেটায়। আমি যখনই অজ্ঞান হয়ে যেতাম ওরা বৈদ্যুতিক শক দিয়ে জ্ঞান ফেরাতো। ওরা যদি আবারও এমন করে তাহলে আমি যে কোনো কিছু করে ফেলার প্রতিজ্ঞা করেছি। আমি বন্দুক তুলে নেব। প্রতিদিন আমি এই নির্যাতন সহ্য করতে পারব না’ বলেন তিনি।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখক সম্পর্কে জানুন

এই রকম আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *