নভেম্বর ২০, ২০১৯

হেসেখেলে বাংলাদেশকে হারাল আফগানিস্তান

নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্য আহামরি বড় ছিল না। কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতায় তালগোল পাকিয়ে ফেলল বাংলাদেশ। দারুণ ব্যাটিংয়ের পর দুর্দান্ত বোলিং আফগানিস্তানের। তাতে জয় আসল খুব সহজেই। ত্রিদেশীয় সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে ২৫ রানে হারাল আফগানিস্তান।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তান ছয় উইকেটে করে ১৬৪ রান। এক বল আগে সব উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ থামে ১৩৯ রানে।

স্কোর: বাংলাদেশ ১৯.৫ ওভারে ১৩৯/১০। আফগানিস্তান ১৬৪/৬ (২০ ওভার)।

পারলেন না আফিফও

লক্ষ্য ছিল নাগালের বাইরে। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দরকার ছিল। সেটাই করতে গিয়েছিলেন আফিফ হোসেন। কিন্তু এবার ব্যর্থ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ১৪ বলে ১৬ রান করে ফিরলেন নাইবের বলে। সীমানায় দারুণ ক্যাচ ধরেন নজিবুল্লাহ। তার আউটের সময় বাংলাদেশের রান সাত উইকেটে ১১৫।

সাব্বির ফিরলেন মুজিবের বলে

তেড়েফুড়ে এগিয়ে এসে মারলেন সাব্বির রহমান। কাজের কাজ হলো না। বল গেল সোজা নাইবের হাতে। মুজিব চার উইকেট নিয়ে একাই বাংলাদেশকে হারিয়ে দিলেন! সাব্বির ২৭ বলে ২৪ রান করে ফিরলেন সাজঘরে। তার ফেরার সময় বাংলাদেশের রান ছয় উইকেটে ৯৫।

মাহমুদউল্লাহকে ফিরিয়ে স্বস্তি আফগান শিবিরে

গুলবাতিন নাইবের স্লোয়ার ডেলিভারী ঠিকমতো বুঝতে পারলেন না মাহমুদউল্লাহ। শটের সময় হাত থেকে ব্যাট ফসকে যায়। টাইমিংয়ে গড়বড় হয়ে মাহমুদউল্লাহ ফিরলেন সাজঘরে। ৩৯ বলে পাঁচ বাউন্ডারিতে তার ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রান। তার আউটের সময় বাংলাদেশের রান পাঁচ উইকেটে ৯০।

সাব্বির-মাহমুদউল্লাহ জুটির পঞ্চাশ

৪৪ বলে জুটির পঞ্চাশ রান পূর্ণ হলো। দ্রুত চার উইকেট হারানোর পর পঞ্চম উইকেটে জুটি বাঁধেন সাব্বির ও মাহমুদউল্লাহ।

রিভিউ নিয়ে বাঁচলেন সাব্বির

রশিদ খান প্রথম ওভারেই উইকেট পেয়ে যেতেন। সাব্বির রহমান রিভার্স সুইপ করলেন। বল তার গ্লাভস ছুঁয়ে আঘাত করে প্যাডে। রশিদ খানের আবেদনে আঙুল তোলেন আম্পায়ার। আউটের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বেঁচে যান সাব্বির।

পঞ্চাশ পেরিয়ে বাংলাদেশ

নবম ওভারের তৃতীয় বলে দুই রান নিয়ে বাংলাদেশের স্কোর ৫০ এ নিয়ে যান সাব্বির রহমান।

সৌম্যর গোল্ডেন ডাক

ক্যারিয়ারের তৃতীয় গোল্ডেন ডাকের তিক্ত স্বাদ পেলেন সৌম্য সরকার। মুজিব উর রহমানের বল পেছনের পায়ে ভর করে খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গোল্ডেন ডাকের সাক্ষী হয়েছিলেন। টি-টোয়েন্টিতে এটি তার সপ্তম ডাক।

সাকিবও হাল ছাড়লেন

আগের ওভারে দুই চার মেরে খোলস থেকে বের হয়ে এসেছিলেন সাকিব আল হাসান। মনে হচ্ছি আজ তার ব্যাট থেকে আসবে বড় কোনো ইনিংস। কিন্তু মুজিবের বলে এলোপাথাড়ি এক শটে সাকিব উইকেট বিলিয়ে এলেন। ১৩ বলে ১৫ রান করে সাকিব হাল ছাড়লেন বাজে শটে।

টিকলেন না মুশফিক

আগের বলেই মেরেছিলেন দারুণ একটি চার। মুশফিকুর রহিম ফরিদ মালিকের পরের বলটা গেলেন স্কুপ করতে, মিস করে হলেন বোল্ড। ওপেনিংয়ে নেমে মুখোমুখি তৃতীয় বলেই এমন একটি শট খেলা শুধু আত্মঘাতীই নয়, অপরাধের পর্যায়ে পড়ে!

তখন ১১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ।

বাজে শটে আউট লিটন

ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই আউট হয়ে গেছেন লিটন দাস। মুজিব উর রহমানকে লেগ সাইডে খেলতে চেয়েছিলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। টপ এজ হয়ে ক্যাচ উঠে যায় কাভারে।

লিটনের সঙ্গে ওপেন করতে নেমেছেন মুশফিকুর রহিম। তিন নম্বরে নেমেছেন সাকিব আল হাসান।

নবী ঝড়ে শেষ ১০ ওভারে ১০৪ রান

প্রথম ১০ ওভারে মাত্র ৬০ রান তুলেছিল আফগানিস্তান। শেষ ১০ ওভারে তারা পেল ১০৪ রান। পুরোটা কৃতিত্ব মোহাম্মদ নবীর। ডানহাতি ব্যাটসম্যানের বিস্ফোরক ইনিংসে এলোমেলো বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ। ডেথ বোলিংয়ে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের দূর্বল চিত্র আরও একবার ফুটে উঠল। মাত্র ৫৪ বলে তিন চার ও সাত ছক্কায় ৮৪ রান করেন নবী। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ ৮৯ রান করেছিলেন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৭ সালে।

সাইফউদ্দিনের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং

প্রথম স্পেলে পেয়েছিলেন দুই উইকেট। শেষ স্পেলে বোলিংয়ে এসে পেলেন আরও দুটি। চার ওভারে ৩৩ রানে তার পকেটে গেল চার উইকেট। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটি তার সেরা বোলিং। এর আগে দুই উইকেট পেয়েছিলেন একবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

সৌম্যর এক ওভারে ২২

প্রথম বল ও শেষ বলে দুই সিঙ্গেল। মাঝের চার বলে দুই চার ও দুই ছক্কা। সৌম্যর করা ১৮তম ওভার থেকে আফগানিস্তান পেল ২২ রান। এখন পর্যন্ত যা আফগানিস্তানের এক ওভারে সর্বোচ্চ।

নবীর দুর্দান্ত হাফ সেঞ্চুরি

সৌম্য সরকারের বল এগিয়ে এসে জায়গা বানিয়ে মিড উইকেট দিয়ে উড়ালেন মোহাম্মদ নবী। ৪৯ থেকে তার রান এক লাফে চলে গেল ৫৫ এ। ৪২ বলে নবী তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এটি তার চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম।

সাইফউদ্দিনের চতুর্থ উইকেট

ব্রেক থ্রু এনে দেওয়ার পর নতুন ব্যাটসম্যান গুলবাদিন নাইবকে টিকতে দিলেন না সাইফউদ্দিন। ডানহাতি পেসারের গতির কাছে পরাস্ত হন শূন্য রান করা গুলবাদিন। তার আউটের সময় আফগানিস্তানে রান ছয় উইকেটে ১২২।

ব্রেক থ্রু এনে দিলেন সাইফউদ্দিন

ডানহাতি পেসার সাইফউদ্দিনের স্লোয়ার তুলে মারতে গিয়ে সাব্বিরের হাতে ক্যাচ তোলেন আসগর আফগান। ৩১ রানে নো বলের কল্যাণে জীবন পাওয়ার পর স্কোরবোর্ডে আরও আট রান যোগ করেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তার আউটের সময় আফগানিস্তানের রান পাঁচ উইকেটে ১১৯। পঞ্চম উইকেটে নবী ও আসগর ৭৯ রানের জুটি গড়েন।

শতরান পেরিয়ে আফগানিস্তান

৫০ বলে দলীয় ৫০ ছুঁয়েছিল আফগানিস্তান। ৫০ থেকে ১০০ যেতে আফগানিস্তানের লাগল মাত্র ৩৭ বল। ১৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ছক্কা মেরে দলের রান ৯৫ থেকে ১০১ এ নিয়ে যান আসগর আফগান।

নো বলে জীবন পেলেন আসগর

তাইজুলের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দেন আসগর আফগান। জায়গায় দাঁড়িয়ে বল হাতে জমান লিটন। সাজঘরের পথ ধরেছিলেন আসগর। কিন্তু আম্পায়ার তাকে ফিরিয়ে আনলেন। নো বলে জীবন পান আসগর। তখন তার রান ছিল ৩১। ফ্রি হিট অবশ্য কাজে লাগাতে পারেননি নবী। এক রান নেন তিনি।

ঘুরে দাঁড়িয়েছে আফগানিস্তান

পঞ্চম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তুললেন দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মোহাম্মদ নবী ও আসগর আফগান। ৪৪ বলে তাদের জুটির পঞ্চাশ রান পূর্ণ হয়। ১৩ ওভার শেষে আগফানিস্তানের সংগ্রহ ৯০ রান।

প্রথম অর্ধে এগিয়ে বাংলাদেশ

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরুটা ভালো হয়নি আফগানিস্তানের। প্রথম দশ ওভারে স্কোরবোর্ডে তুলেছে ৬০ রান। হারিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ চার উইকেট। প্রথম অর্ধে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। শেষটা স্বাগতিকরা রাঙাতে পারেন কিনা সেটাই দেখার।

আফগানিস্তানের ৫০ বলে ৫০

তাইজুলের সোজা বল মিড উইকেটে পাঠিয়ে এক রান নিলেন মোহাম্মদ নবী। নবম ওভারের দ্বিতীয় বলে আসা ওই রানে দলীয় ৫০ ছুঁয়ে ফেলে আফগানিস্তান। ৫০ বলে ৫০ রান আফগানিস্তানের। যদিও অতিরিক্ত খাত থেকে তারা পেয়েছে ১৩ রান।

পাওয়ার প্লে’তে দারুণ বাংলাদেশ

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে আফগানিস্তানের রানের চাকায় লাগাম টেনেছেন সাকিব ও সাইফউদ্দিন। পাওয়ার প্লে’তে চার উইকেট তুলে নিয়েছেন তারা। এ সময়ে আফগানরা স্কোরবোর্ডে তুলেছে ৪১ রান।

বিপজ্জনক নজিবুল্লাহ সাজঘরে

সাকিবের অফস্ট্যাম্পের বাইরের বল তুলে মারতে গিয়ে সৌম্যর সহজ ক্যাচে পরিণত হন নজিবুল্লাহ জারদান। আগের ম্যাচে মাত্র ৩০ বলে ৬৯ রান করেছিলেন তিনি। আজ জ্বলে উঠে আগেই সাকিব তার উইকেট তুলে নেন। সাত বলে মাত্র পাঁচ রান আসে তার ব্যাট থেকে। নজিবুল্লাহর আউটের সময় আফগানিস্তানের রান চার উইকেটে ৪০। সাকিবের একটি দ্বিতীয় উইকেট।

প্রতিশোধ নিলেন সাইফ উদ্দিন

প্যাডের ওপরের বল দারুণ টাইমিংয়ে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে উড়ালেন নাজিব তারাকাই। মিরপুরের পুরো গ্যালারি অবাক হয়ে দেখল সেই শট। অবাক বোলার সাইফউদ্দিন। এক পর বলই ডানহাতি পেসার নিলেন প্রতিশোধ। প্রায় এক ধরনের ডেলিভারীতে এবার ক্যাচ তোলেন তারাকাই। নিজের জায়গা থেকে পিছনে গিয়ে বল তালুবন্দি করেন সাব্বির। ১৩ বলে ১১ রান করে সাজঘরে ফিরলেন তারাকাই। তার আউটের সময় আফগানিস্তানের রান তিন উইকেটে ১৯।

সাকিব ফেরালেন জাজাইকে

সাকিবের বল ডিপ মিড উইকেট দিয়ে উড়াতে চেয়েছিলেন হজরতউল্লাহ জাজাই। টাইমিংয়ে গড়বড় করে হাওয়ায় বল ভাসান এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। সহজ ক্যাচে জাজাইকে সাজঘরের পথ দেখান লিটন। সাকিব নিজের প্রথম ওভারেই পেলেন সাফল্য। জাজাই সাজঘরে ফেরার সময় আফগানিস্তানের রান দুই উইকেটে ১০।

প্রথম বলে সাইফউদ্দিনের উইকেট

দারুণ এক সুইং ডেলিভারীতে রহমানুল্লাহ গুরবানজকে বোল্ড করলেন পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। বল হাতে প্রথম বলেই উইকেট। আগের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঝড়ো ব্যাটিং করেছিলেন গুরবানজ। আজ প্রথম বলেই গোল্ডেন ডাক।

টস

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক রশিদ খান।

দুই দলের অপরিবর্তিত একাদশ

একাদশে কোনো পরিবর্তন আনেননি সাকিব আল হাসান। রশিদ খানও প্রথম ম্যাচের একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছেন।

বাংলাদেশ দল

লিটন দাস, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, আফিফ হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তাইজুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান।

আফগানিস্তান দল:

হজরতউল্লাহ জাজাই, করিম জানাত, নাজিব তারাকাই, আসগর আফগান, মোহাম্মদ নবী, নজিবুল্লাহ জাদরান, গুলবাদিন নাইব, রহমানুল্লাহ গুরবানজ, রশিদ খান (অধিনায়ক), ফরিদ আহমেদ, মুজিব উর রহমান।

জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ

বিশ্বকাপে ব্যর্থতা, এরপর শ্রীলঙ্কায় গিয়ে হোয়াইটওয়াশ, সবশেষ আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে হার- সব মিলিয়ে ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই বৃত্ত ভাঙতে একটি জয় দরকার ছিল প্রবলভাবে। সেই জয় এসেছে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে। জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ। এবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ সাকিব আল হাসানদের।

হেড টু হেড

দুই দলের টি-টোয়েন্টি রেকর্ড ও পরিসংখ্যানে এগিয়ে আফগানিস্তান। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে দুই দলের চারবারের দেখায় বাংলাদেশ জিতেছে একটি, ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। আর গত বছর আফগানদের হোম ভেন্যু ভারতের দেরাদুনে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখক সম্পর্কে জানুন

এই রকম আরও সংবাদ

৩৩ মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *