অক্টোবর ২২, ২০১৯

জি কে শামীম ১০, সাত দেহরক্ষী ৪ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক: অবৈধ ক‌্যাসিনো চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার জি কে শামীমের অস্ত্র ও মাদকের দুটি মামলায় ৫ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আর অস্ত্র আইনের মামলায় তার সাত দেহরক্ষীর চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

শনিবার রাতে ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম মাহমুদা আক্তারের আদালত শুনানি শেষে রিমান্ডের আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া শামীমের সাত দেহরক্ষী হলেন- মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. মুরাদ হোসেন, মো.জাহিদুল ইসালাম, মো.শহিদুল ইসলাম, মো.কামাল হোসেন, মো. সামসাদ হোসেন ও মো. আমিনুল ইসলাম।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম আসামি জি কে শামীমের অস্ত্র আইনের মামলায় ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় সাত দিন করে ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আর তার দেহরক্ষীদের অস্ত্র আইনের মামলায় সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন।

অস্ত্র আইনের মামলার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, জি কে শামীম চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, অবৈধ মাদক এবং জুয়ার ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। অপর সাত আসামি শামীমের অপকর্মের সহযোগী উচ্চ বেতনভোগী দেহরক্ষী। শামীম এ সাত আসামির সহায়তায় তাদের নিজ নামে লাইসেন্স করা অস্ত্র প্রকাশ‌্যে বহন, প্রদর্শন ও ব্যবহার করে লোকজনের মধ্যে ভয়-ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের টেন্ডারবাজি, মাদক ও জুয়ার ব্যবসাসহ স্থানীয় বাস টার্মিনাল, গরুর হাঁটবাজারে চাঁদাবাজি করে স্বনামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হন।

মাদক মামলার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি অস্ত্রের শর্ত ভঙ্গ করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাদক ব্যবসা ও মানি লন্ডারিং করে আসছে। জি কে শামীম একজন পেশাদার মাদক বিক্রেতা এবং কুখ্যাত চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজ বলে জানা যায়। আসামির কাছ থেকে আরো বিদেশী মদ উদ্ধারসহ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত সহযোগী আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

রাষ্ট্রপক্ষে হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরণ), আজাদ রহমান রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন করেন।

অন‌্যদিকে আসামিদের পক্ষে আবদুর রহমান হাওলাদারসহ কয়েকজন আইনজীবী বলেন, আসামিদের লাইসেন্স ২০২১ সাল পর্যন্ত বৈধ, কোন অস্ত্রই অবৈধ না। তাছাড়া তাদের ব্যবহৃত অস্ত্র স্যারেন্ডার করতে বলা হয়নি বা এ বিষয়ে কোন নোটিশ দেয়া হয়নি। জি কে শামীমের দেহরক্ষীরা অবসরপ্রাপ্ত আর্মির লোক। তাদের নামে অস্ত্র লাইসেন্স করা। তারা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার গুলশানের নিকেতনে নিজ কার্যালয় থেকে জি কে শামীমকে সাত দেহরক্ষীসহ আটক করে র‌্যাব। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও অবৈধ ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগ আছে। এ সময় তার অফিসে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক পাওয়া গেছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও এফডিআর জব্দ করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও অর্থ পাচার আইনে তিনটি মামলা করা হয় ।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখক সম্পর্কে জানুন

এই রকম আরও সংবাদ

৬ মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *