ভ্রমণ করতে ভালো লাগে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন। দেশ থেকে বিদেশে ঘুরে বেড়ানো, পৃথিবীর নিখুঁত বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য অবলোকন করতে সবাই চায়। একঘেয়েমি জীবন থেকে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে ভ্রমণ অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। তবে ভ্রমণে যাওয়ার আগে সবচেয়ে বেশি যেটা জরুরি সেটা হলো প্রস্তুতি। ভ্রমণ তখনই আনন্দের হবে, যখন আপনার প্রস্তুতি থাকবে সুন্দর ও গোছানো। প্রতিটি কাজের পেছনেই সঠিক পরিকল্পনা থাকা উচিত। ভ্রমণের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার কমপক্ষে দুদিন আগে প্রস্তুতি নিয়ে নিবেন। দূরে কোথাও ভ্রমণের ক্ষেত্রে এক সপ্তাহ আগে প্রস্তুতি নিতে পারেন। শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি ভ্রমণের জন্য জরুরি। ভ্রমণে যাওয়ার আগে যেসব প্রস্তুতি নিতে হবে সেসব তুলে ধরা হলো।
কোথায় যাচ্ছেন এবং কতদিন থাকবেন তার ওপর নির্ভর করে আপনার ব্যাগে কী কী নেবেন। তবে ব্যাগের ওজন সমসময় চেষ্টা করবেন হালকা রাখার। একটা ভারী ব্যাগ আপনার ভ্রমণ আনন্দ মাটি করে দিতে পারে। ভ্রমণের আগে ব্যাগ গোছানোর সময় মন দিয়ে দেখুন কী কী জিনিসপত্র আপনার লাগবে। মনে রাখবেন ছোট ছোট অনেকগুলো ব্যাগ না নিয়ে চেষ্টা করবেন একটি ব্যাগেই সব নিতে। এতে আপনার গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্রগুলো হারানোর ঝুঁকি অনেক কম থাকে।
আপনার ভ্রমণের লোকেশন কোথায় সেটার ওপর নির্ভর করবে আপনার পোশাক বাছাই করা। কারণ যে স্থানে ভ্রমণ করার জন্য যাবেন সেখানকার আবহাওয়া কেমন সেটাও জানতে হবে। আবহাওয়া অনুযায়ী সঠিক পোশাক নির্বাচন করা খুব জরুরি। এতে আপনার ভ্রমণ হবে আরামদায়ক। শীতের সময় ভ্রমণের ক্ষেত্রে তাপনিরোধক কাপড়ের তৈরি জামা পরিধান করতে হবে। ভ্রমণে জামার রং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উজ্জ্বল রঙের পোশাকে ছবি সুন্দর হয়। উজ্জ্বল রঙে মনও ফুরফুরে থাকে। এ ছাড়াও রাতে ঘুমানোর পোশাক, মোজা, মাফলার ইত্যাদি লাগেজের একপাশে রাখবেন। রাতের জন্য হালকা ও আরামদায়ক পোশাক নেওয়ার চেষ্টা করবেন। বিশেষ করে যেখানে যাচ্ছেন সেখানকার আবহাওয়া অনুযায়ী হলে বেশ ভালো। মোজা, মাফলার ইত্যাদি যে কদিন থাকবেন সেই হিসাবে নেবেন।
ব্রাশ, পেস্ট, শ্যাম্পু, চিরুনি, ক্রিম/লোশন, লিপজেল, সানগ্লাস, ছোট আয়না, স্কার্ফ, চিরুনি, লাইট, ক্যাপ/হ্যাট, রুমাল, ওয়েট টিস্যু ইত্যাদি জিনিস একটা আলাদা ছোট ব্যাগে নিয়ে নিন। পুরুষরা যারা নিয়মিত সেভ করেন তারা রেজর-ফোম, এসব নিতে ভুলবেন না। নারীরা মেকআপ কিট বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস এ ব্যাগেই নিতে পারেন। আপনার স্যান্ডেল-জুতাও পলিথিন বা কাগজে মুড়িয়ে লাগেজের একপাশে রাখতে পারেন। আপনার ভ্রমণ যদি দেশের ভেতর হয় তাহলে অবশ্যই ব্যাগে একটা ছাতা রাখবেন। তাই ব্যাগে ছাতা রাখাটা হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
বেড়াতে গিয়ে স্মৃতি ধরে রাখতে কে না চায়? তাই ক্যামেরা সঙ্গে রাখতে পারেন। তা ছাড়া মোবাইলেও আজকাল ভালো ছবি ওঠে। তাই মোবাইলের স্পেস খালি রাখবেন ভ্রমণে যাওয়ার আগে। সে ক্ষেত্রে চার্জার, মেমোরি কার্ড, ব্যাটারি ব্যাগে ঢুকাতে ভুলবেন না। আর মোবাইল চার্জারের পাশাপাশি একটি পাওয়ার ব্যাংকও সঙ্গে রাখুন। ল্যাপটপ নিলে অবশ্যই মনে করে তার চার্জারটি ব্যাগে রাখতে ভুল করবেন না।
আরও পড়ুনঃ Best Travel Gadgets for Bangladeshi Travelers
সবচেয়ে ভালো হয়, সব চার্জার এবং গ্যাজেট একটা ব্যাগে রাখলে। তাহলে প্রয়োজনের সময় সহজে খুঁজে পাবেন। বেশ কয়েকজন মিলে বন্ধুরা যখন ভ্রমণে যাই দেশে হোক আর বিদেশেই হোক সবাই মিলে মোবাইল, ক্যামেরা চার্জ দিতে গেলে বিপাকে পড়তে হয়। যথেষ্ট সংখ্যক চার্জিং পয়েন্ট না থাকায় এ সমস্যায় অনেকেই পড়েন। এজন্য একটা ছোট মাল্টিপ্লাগ সঙ্গে থ্রি-পিন থেকে টু-পিন কনভার্টার ব্যাগে রাখা ভালো।
সেইসঙ্গে হালকা শুকনো খাবার, পানি ও আপনার প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়াও যে কোনো ধরনের ঘটনা কিংবা বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে অবশ্যই নিজের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট কিংবা আপনার প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড রাখুন।
টাকা-পয়সা ছাড়া তো ভ্রমণের কথা চিন্তাই করা যায় না। ভ্রমণে যাওয়ার আগে ভ্রমণের হিসাব-নিকাশ করে ফেলা ভালো। কত টাকা খরচ করবেন সে অনুযায়ী বাজেট পরিকল্পনা করতে হবে। যে দেশ বা স্থানে যাবেন সে অনুযায়ী কিছু পরিমাণ নগদ টাকা অবশ্যই সঙ্গে রাখবেন। সেখানে এটিএম কার্ডের ব্যবহার আছে কিনা কিংবা বুথ পাওয়া যাবে কিনা সে ব্যাপারে আগেই জেনে নিন। এ ছাড়া বিকাশ কিংবা মোবাইলে লেনদেন করা যায় এমন কোনো অ্যাকাউন্ট থাকলে ভ্রমণে কাজে আসবে। অবশ্যই মোবাইলে পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যালান্স রাখবেন।
আপনার ভ্রমণসঙ্গী হিসাবে আপনার শিশুড়-সন্তান থাকতেই পারে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই তার বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। তার খাবার থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব ভ্রমণ অনুষঙ্গ গুছিয়ে নিতে হবে সবার আগে। কারণ বেড়াতে গিয়ে শিশুর যদি কোনো সমস্যা হয়, তাহলে বেড়াতে যাওয়াটাও তখন নিরানন্দের হয়ে যায়। তাই আপনার ছোট্ট ভ্রমণসঙ্গীর জন্য চাই বাড়তি সতর্কতা।
ভ্রমণে যাওয়ার আগে অনেক সময় বাস-ট্রেন কিংবা প্লেনের জার্নি বোরিং লাগে। অনেকেই এ সময়টুকু উপভোগ করতে পারেন না। এ সময়টুকু উপভোগ করতে আপনি সঙ্গে দু-একটা বই নিন। অবশ্যই সেটা আপনার প্রিয় লেখক এবং পছন্দের বই হলে ভালো হয়। প্লেন, বাস বা ট্রেনে বসে পড়তে পারবেন। এ ছাড়া আপনি যদি লিখতে ভালোবাসেন তাহলে খাতা-কলম নিতে পারেন সঙ্গে। হঠাৎ কোনো জরুরি তথ্য পেলে নোট করা যাবে তাতে। তা ছাড়া বলা তো যায় না, কোনো সুন্দর স্থান দেখে আপনার ভেতর কবিতাও চলে আসতে পারে। ভ্রমণে যাবার আগে অবশ্যই আপনার পছন্দসই গান নিয়ে নেবেন। গানে গানে পথ চললে ভ্রমণ আরও উপভোগ্য হবে।
যানবাহন থেকে নামার সময় কোনো মালপত্র ফেলে গেলেন কি না সেদিকে খেয়াল রাখবেন। নামার সময় তাড়াহুড়া করা যাবে না। মানি ব্যাগ, ক্রেডিট কার্ড সাবধানে রাখবেন। সব টাকা মানিব্যাগে না রেখে কিছু টাকা অন্য কোনো জায়গা কিংবা আপনার ভ্রমণসঙ্গীর কাছে রাখবেন। একটি কার্ডে আপনার ঠিকানা লিখে রাখবেন। ব্যাগ হারিয়ে গেলে কেউ পেয়ে থাকলে ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। খোলামেলা অ-স্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার খাওয়া যাবে না। পরিমিত খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। সন্ধ্যার পর অথবা বেশি রাত পর্যন্ত হোটেলের বাইরে অবস্থান করবেন না। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করতে গেলে। অবশ্যই শিশুদের দিকে লক্ষ্য রাখুন। ভ্রমণের সময় অপরিচিত লোকদের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকুন।